মেঘনা সিমেন্ট মিলস পিএলসির ৩৩তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কোম্পানির উপদেষ্টা ও বিকল্প পরিচালক ময়নাল হোসেন চৌধুরী। দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশে-বিদেশে বিরাজমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরজুড়ে নির্মাণ ও আবাসন খাতে স্থবিরতা বিরাজ করেছে।
এর প্রভাব পড়ে সিমেন্ট ও নির্মাণসামগ্রীর বাজারে। ফলে মেঘনা সিমেন্ট কারখানার কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ কারণেই সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি বলে জানান ময়নাল হোসেন চৌধুরী।
সাধারণ সভায় উপস্থিত ছিলেন নিরপেক্ষ পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল করিম, বিকল্প পরিচালক এ কে এম নাজমুল হক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্বে) মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ মাহবুব হায়দার খান, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল ভূঁইয়া এবং প্রধান কর্মকর্তা (এইচআইএসি) সীমান্ত বিশ্বাসসহ বিধিবদ্ধ নিরীক্ষক ও কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সভা সঞ্চালনা করেন কোম্পানির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিব এম নাসিমুল হাই। বার্ষিক সাধারণ সভায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শেয়ারহোল্ডার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংযুক্ত থেকে বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেন এবং সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। সভায় গত ৩০ জুন সমাপ্ত আর্থিক বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, পরিচালকগণের নির্বাচন এবং কোম্পানির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য বিধিবদ্ধ নিরীক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত আলোচ্যসূচিসমূহ অনুমোদন করা হয়। এ বছর কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্তও সভায় অনুমোদিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ময়নাল হোসেন চৌধুরী বলেন, গত ৩০ জুন সমাপ্ত আর্থিক বছরটি বাংলাদেশের জন্য সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রেই ছিল অভ্যন্তরীণভাবে ঘটনাবহুল ও চ্যালেঞ্জিং। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আসবে, এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অস্থিরতা, অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও বৈশ্বিক সংকট দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
তিনি বলেন, নির্মাণ ও আবাসন খাতে স্থবিরতার কারণে সিমেন্ট ও নির্মাণসামগ্রীর চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি কাঁচামাল আমদানিকে জটিল করে তুলেছে এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয় শিল্প খাতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে সিমেন্ট শিল্পসহ অন্যান্য শিল্প খাতে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়নি।
ঋণভার ও সুদ ব্যয়ের বৃদ্ধি দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে সংকুচিত করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের গতি মন্থর হওয়ায় নির্মাণ খাত এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পসমূহ, বিশেষ করে সিমেন্ট শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এসব প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে আলোচ্য অর্থবছরে মেঘনা সিমেন্ট মিলস পিএলসির উৎপাদন, বিক্রয় ও সার্বিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং কোম্পানি নিট ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তবে শেয়ারহোল্ডারদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, বর্তমান চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক অবস্থার উন্নয়ন হলে কোম্পানি পুনরায় লাভজনক অবস্থানে ফিরে আসবে এবং তখন সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ প্রদানে সক্ষম হবে। এ লক্ষ্যে পরিচালনা পর্ষদ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সভাপতি আরও বলেন, তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, গ্রহণযোগ্য মূল্য নির্ধারণ, বাজার সম্প্রসারণ এবং ভোক্তাদের চাহিদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিবেশ ও সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোম্পানির কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মেঘনা সিমেন্ট মিলস পিএলসি সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও সকল অংশীজনের অব্যাহত সহযোগিতায় মেঘনা সিমেন্ট মিলস পিএলসি একটি টেকসই, প্রতিযোগিতামূলক ও লাভজনক শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে যাবে।

