| |
  • প্রচ্ছদ
  • নারী ও শিশু
  • আত্মহত্যা প্রবণতাকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার আহ্বান
  • আত্মহত্যা প্রবণতাকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার আহ্বান

    Icon
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন

    আত্মহত্যা নিয়ে সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়ে এটিকে সম্পূর্ণভাবে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও প্রতিরোধমূলক সংগঠনের সংশ্লিষ্টরা।

    তারা বলেন, আত্মহত্যামূলক আচরণকে জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পরিবারের কোনো সদস্য, বন্ধু, সহপাঠী বা সহকর্মী কারো মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বা লক্ষণ দেখা গেলে তার প্রতি তাৎক্ষণিক সাড়াদান, সহানুভূতি, মানসিক যন্ত্রণা প্রশমনে তার অব্যক্ত কথাগুলো শোনা, সমস্যার সমাধান বের করা সর্বোপরি কাউন্সেলিং ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। পাশাপাশি আত্মহত্যা প্রতিরোধ সামাজিক আন্দোলন জোরদার করতে হবে।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর.সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে ‘চেইঞ্জিং দ্য ন্যারেটিভ অন সুইসাইড’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

    আত্মহত্যা প্রতিরোধমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশন (বিটিএফ)’ এ সেমিনারের আয়োজন করে। দিবসটি উপলক্ষে অনুষ্ঠানের শুরুতে আর.সি মজুমদার অডিটোরিয়ামের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন ও ডাকসু ভবন হয়ে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়।

    সেমিনারে কি-নোট স্পিকার হিসেবে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে ৭ লাখের বেশি মানুষ আত্মহত্যায় মারা যান। বিশ্বজুড়ে সংঘটিত আত্মহত্যার প্রায় ৭৭ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ঘটে।

    তিনি বলেন, সর্বোচ্চ মানের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া মানুষের অধিকার। আত্মহত্যামূলক আচরণকে জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় মনোযোগও নিশ্চিত করতে হবে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশনের (বিটিএফ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়শ্রী জামান বলেন, প্রচলিত ধারণা পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন। এর অর্থ হলো এমন বহুমাত্রিক নীতির পক্ষে কথা বলা, যা মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেয়, চিকিৎসার সুযোগ বাড়ায় এবং প্রয়োজনে সহায়তা প্রদান করে।

    তিনি বলেন, যারা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের প্রতি সহানুভূতি ও করুণা জাগিয়ে তোলা দরকার। আত্মহত্যার চিন্তা ও অনুভূতি প্রচণ্ড যন্ত্রণা এবং কষ্টের । আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতি, তার কথা শোনা ও সমর্থন দেওয়া অপরিহার্য।

    জয়শ্রী জামান বলেন, অধিকাংশ মানুষ জানে না বা বিশ্বাস করে না যে, আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা যায়। প্রচলিত মিথ এবং অসংখ্য মিথ্যা ও ভুল তথ্যের ভিড়ে প্রকৃত সত্য চাপা পড়ে যায়। কেউ আত্মহত্যা করতে চাইলে নানাভাবে সংকেত দেয়। এ সময় যদি তাৎক্ষণিক তার প্রতি সাড়া দেওয়া যায়, তাহলে তা প্রতিরোধ সম্ভব।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের অধ্যাপক (অব.) কাজী লুতফুন নেসা, যক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক কবিতা দিলাওয়ার, বিনির্মাণ সংগঠনের সভাপতি নিলুফার বিলকিস, ইনারহুইল ক্লাব অব ওয়েসিস ঢাকা ডিস্ট্রিক্ট-৩৪৫ এর প্রেসিডেন্ট সাদিয়া জিনাত।

    স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি ও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) উপ-প্রধান বার্তা সম্পাদক কবি জুনান নাশিত, বিটিএফের উপদেষ্টা, লেখক, গবেষক ও সংস্কৃতি কর্মী এমিলি জামান। নৃত্য পরিবেশন করেন সৈয়দা তাসফিয়া জাহান সাবা।

    অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইনারহুইল ক্লাব অব লবেলিয়া ঢাকা ডিসট্রিক্ট-৩৪৫ এর ফাতিমা হাসনাত।

    আরও পড়ুন