খাস জমি উদ্ধারে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, খাস জমিটা বাংলাদেশ সরকারের সম্পত্তি। মঙ্গলবার (০৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে তিনি এমন নির্দেশনা দেন।
ডিসি সম্মেলন শেষে তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে আমাদের সকল ব্যবস্থা নিচ্ছি। আগামী ১৯ তারিখ সকাল ১০টায় ভূমিভবনে প্রধানমন্ত্রী ভূমিসেবা মেলা উদ্বোধন করবেন। আশা করছি জনগণকে আরও সচেতন করার জন্য এবং অত্যন্ত নির্ভেজাল একটা ভূমিসেবা তারা যেন পায়, দালালদের হাত থেকে যেন তারা রক্ষা পায়।
আশা করছি ভূমিসেবা মেলার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে নতুন একটি দিগন্তের উন্মোচন হচ্ছে। সারা দেশের বেহাত হওয়া খাস জমি উদ্ধারের জেলা প্রশাসকদের কোনো নির্দেশনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, অবশ্যই, খাস জমিটা তো দেশের বা বাংলাদেশের সরকারের সম্পত্তি।
এটা অবশ্যই দেখবে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। যারা অতীতে গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আমলে এ ধরনের এগুলো (দখল) খুব বেশি হয়েছে। তিনি বলেন, সবকিছুই খুব দ্রুত সময় পুনরুদ্ধারের সকল কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করছি এবং নির্দেশও দিয়েছি। দুর্নীতি দমন কমিশনে আমরা এই বিষয়ে লিখছি। কেউ যদি অতীতে (দখল) করে থাকে, অবশ্যই আইন তার নিজস্ব গতিতে আগাবে।
ভূমি রেজিস্ট্রেশন আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় নেওয়ার পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমরা একই ছাতার নিচে আনার চেষ্টা করছি। আইন মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে একই ব্যবস্থায় আনার চেষ্টা করছি। অতীতে এটা ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ছিল। আমরা চেষ্টা করছি আবার পুনরায় ফিরে আনার।
জমি সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তির বিষয়ে ভূমি মন্ত্রী বলেন, আমরা এই খুব দ্রুত সময়ে এগুলো (মামলা) সব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে যা কিছু আসবে যেটা আইনের বিষয় সেটা আইন মন্ত্রণালয় দেখবে এবং যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় আমরা চেষ্টা করছি।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থায় একটা অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি। অত্যন্ত দক্ষতা, সততা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের কাছে যেন ভূমি সেবা পৌঁছে দিতে পারি, বিশেষ করে দালাল মুক্ত এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের যে উইং, বিভাগ কমিশনার, ডিসি, ইউএনওদের মাধ্যমে; সবকিছুতেই আরও ইজি এবং ভূমিসেবার মধ্য দিয়ে আমরা সুন্দর করে আনার চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, দেশবাসীকে জানাতে চাই ভূমি মন্ত্রণালয় কিন্তু অলমোস্ট শতভাগ অটোমেটেড হয়েছে। আমাদের একটি অ্যাপ আছে এটাকে ভূমি অ্যাপ বলে। যেটার মাধ্যমে যাবতীয় ভূমি সংক্রান্ত সকল কিছুই করা সম্ভব। একইসঙ্গে আমাদের ভূমিভবনে একটা নাগরিক সেবা কেন্দ্র রয়েছে যেখানে এই ডিজিটাল সার্ভিসটা আমরা প্রোভাইড করে থাকি।
তিনি বলেন, পুরো ব্যবস্থাকে একটি ইন্টিগ্রেটেড সিস্টেমের মধ্যে অটোমেটেড সিস্টেমে নিয়ে আসছে। যেখানে আর কোনো হিউম্যান ইন্টারফেয়ারেন্স বা মধ্যসত্বভোগীদের কোনো ইন্টারফেয়ারেন্স থাকবে না। এখনো কিন্তু একদম অলমোস্ট আপনি ধরে রাখেন শতকরা ৯০ ভাগের মত কমে গেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাব-রেজিস্ট্রি বা সাব-রেজিস্টার অফিস কিন্তু আসলে আমাদের ল্যান্ড মিনিস্ট্রির আওতায় নাই। এটা হলো আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে। কিন্তু এটা আসলে আমরা অজ্ঞতার কারণে হোক বা আমরা আমাদের জানানোর ব্যর্থতার কারণে হোক এগুলা কিন্তু মানুষ জানে না। তো হয় কি যে যখন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বা সাব-রেজিস্টার কর্তৃক তখন যারা হয়রানির শিকার হয় বা কোনো সমস্যার শিকার হয়, অটোমেটিক তারা মনে করে কিনা ভূমিসেবাটা ঠিকমত পাচ্ছে না।
ল্যান্ড মিনিস্ট্রি ঠিকমত সেবা দিচ্ছে না। আমরা অনুরোধ করেছি আমাদের ডিসি এবং ইউএনও সাহেবদেরকে, যারা আছেন থ্রো দ্য কান্ট্রি ওনারা (ডিসি) যেন ওনাদের হ্যান্ডস অর্থাৎ ইউএনওদের মাধ্যমে এই বিষয়ে জনগণকে সচেতন করেন এবং জানান আমাদের অ্যাপের ব্যাপারে।
আমাদের অটোমেটেড সার্ভিসের ব্যাপারে এবং আমাদের ভূমি সেবা কেন্দ্র এবং আমাদের টোয়েন্টি ফোর আওয়ার হটলাইনের ব্যাপারে।

