যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে বহুমাত্রিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এতদিন কূটনৈতিক কৌশলে বিষয়গুলো সামাল দেওয়ার চেষ্টা থাকলেও, তা এবার প্রকাশ্য বিরোধে রূপ নিয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বিভিন্ন বক্তব্যে ওয়াশিংটনের কঠোর নীতি ও চাপের বিরুদ্ধে নয়াদিল্লির স্পষ্ট অসন্তোষ উঠে এসেছে।
১. বাণিজ্য ও কৃষি নীতিতে বড় দ্বিমত যুক্তরাষ্ট্র ভারতের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য অংশীদার হলেও দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি সমঝোতা এখনো আটকে রয়েছে।
ভারতের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র একক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশের কৃষি ও অভ্যন্তরীণ বাজারকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
জয়শঙ্কর মন্তব্য করেছেন, কোনো দেশের নিজস্ব নীতি নির্ধারণে অন্য দেশের জীবন ও জীবিকা কঠিন করে তোলা উচিত নয়।
২. রাশিয়ার তেল কেনায় ১০০ শতাংশ শুল্কের খাঁড়া যুক্তরাষ্ট্র নতুন একটি আইনের আওতায় রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রাখা দেশগুলোর (যেমন: ভারত) ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছে।
নয়াদিল্লি সতর্ক করে জানিয়েছে, এটি ভারতের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয় এবং এই ধরনের শুল্ক কার্যকর হলে তা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিরাট বাধা হতে পারে।
৩. সন্ত্রাসবাদ ও পাকিস্তান ইস্যুতে নয়াদিল্লির ক্ষোভভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব এবং সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে ওয়াশিংটনের ভূমিকায় মারাত্মক অসন্তুষ্ট নয়াদিল্লি।
কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার পর দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনার মাঝে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘটানোর কৃতিত্ব দাবি করায় ভারত ক্ষোভ প্রকাশ করে।
ভারতের দৃষ্টিতে, পাকিস্তান সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে জড়িত হলেও মার্কিন প্রশাসন সেটিকে না দেখে বরং ইসলামাবাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছে, যা ভারতের প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগকে উপেক্ষা করার শামিল।
৪. মোদি সরকারের ওপর ঘরোয়া রাজনৈতিক চাপ ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির চাপও মার্কিনদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেওয়ার অন্যতম কারণ।
ভারতে আসন্ন রাজ্য নির্বাচনের পটভূমিতে বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে “যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকারের” অভিযোগ তুলছে।
ফলে ভারতের মোদি সরকার এবার আর নীরব না থেকে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে সরাসরি ওয়াশিংটনের নীতির জবাব দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স



























