আকাশসীমার অনুমোদন সংক্রান্ত জটিলতা দূর হওয়ার পর অবশেষে রাশিয়ার বিশেষ কার্গো ফ্লাইটে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের নতুন চালান।
রাশিয়া থেকে ঢাকায় রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি, সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে কড়া নিরাপত্তায় সড়কপথে যাচ্ছে রাশিয়া থেকে আনা ইউরেনিয়াম।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পুলিশ, এসআরবি, ডগ স্কোয়াড, এপিবিএনের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর বহর ইউরেনিয়াম নিয়ে রওনা হয় রূপপুরে।
শুক্রবার গভীর রাতে রাশিয়ার তৈরি চার ইঞ্জিনের ‘ইলিউশিন আইএল-৭৬’ (Ilyushin Il-76) মডেলের একটি বিশেষ বিমানে এই ইউরেনিয়াম হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই চালানটি গত ২৪ সেপ্টেম্বর দেশে আসার কথা থাকলেও ট্রানজিট দেশ হিসেবে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের ক্লিয়ারেন্স পেতে দেরি হওয়ায় এর পৌঁছানো কিছুটা পিছিয়ে যায়।
সমস্ত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে ও বিমানপথের অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ করে শেষমেশ জ্বালানিটি সফলভাবে ঢাকার মাটিতে নিয়ে আসা সম্ভব হয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য জ্বালানি ২০২৩ সালে বাংলাদেশে এসেছিল এবং চলতি বছরের মে মাসে তা পারমাণবিক চুল্লিতে স্থাপন করা হয়।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১ থেকে দেড় বছর পরপর নির্দিষ্ট পরিমাণ ইউরেনিয়াম রিফুয়েলিং বা পরিবর্তন করতে হয়।
সেই ধারাবাহিকতা ও আগাম রিফুয়েলিং চাহিদার অংশ হিসেবেই রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন (রসাটম)-এর তত্ত্বাবধানে এই বিশেষ চালান পাঠাল রাশিয়া।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) নির্দেশিকা এবং উচ্চপর্যায়ের কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে বিশেষায়িত যানবাহন ব্যবহার করে সড়কপথে রূপপুর প্রকল্পে এই ইউরেনিয়াম পরিবহনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ইউরেনিয়াম প্রকল্প এলাকায় নিরাপদে পৌঁছানোর পর বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন শুরুর প্রাথমিক পরীক্ষানিরীক্ষাগুলোর গতি আরও এক ধাপ ত্বরান্বিত হবে।





























